Happy Birthday. May God bless you now and always.
May you have a good life. One that you may recall as 'good', when you get older.
I miss your writings and those occasional letters.
Wish that you contemplate and write a lot, as much as before.
Hope you've been doing well to this day.
Yours ever,
KS
I thought I might write here...Why? well, I've to think hard... :) I guess a web log is self explanatory... although not quite like my Personal Diary, Its like my little room that has a large window.
Tuesday, January 5, 2010
উত্তরপাড়ার কথা
উত্তরপাড়ার কথা বলি। আমার জন্ম কলকাতায় হলেও, স্কুলবেলার শেষ পর্যন্ত কেটেছে আমার সেখানে। বাড়ি বলতে, পাড়া বলতে, ছোটবেলা বলতে বুঝি- উত্তরপাড়া। হুগলী জেলার এক প্রান্তে থাকা, প্রাচীন এক মফঃসল।
ছোট্ট জায়গা। টাউন বলা যায়। প্রায় সবাই সবাইকে চেনে। শুধু চেনা নয়, ঠিকুজি-কুষ্ঠি জানে। লুকিয়ে প্রেম করা দূরে থাক, একা একা ফুচকা বা আইসক্রিম খাওয়াও অসম্ভব ব্যাপার। যত দূরেই থাকি না কেন, চেনা কেউ একবার দেখতে পেলে হল। ওষুধের দোকানের কাকু, পাশের বাড়ির কাজের মাসি, সদাব্যস্ত মহলানবীশ দাদু- যে দেখতে পাবে চেঁচিয়ে ডাক দিয়ে পিলে চমকে দেবে -কীরে, কবে এলি? আছিস তো এখন? একগাল হেসে বলা-এই তো এলাম, আছি। এটাই আদর। বুকের মধ্যে স্পষ্ট বুঝতে পারা- পৌঁছে গেছি।
অনেকগুলো মাঠ ছিলো। ছোট ছোট। বড় বড়। মাঠের পাশে কল্কেফুলের গাছ,টগরফুলের গাছ, মালতিলতা অনেক ছিল। খেলাধূলায় কোনোদিন-ই তেমন পারদর্শী না হবার ফলে, মাঝে মাঝেই মূল খেলা থেকে বাদ পড়ে যেতাম। দুধভাত। খেললে ভালো, না খেললে আরো ভালো। প্রথমটা অভিমান হত। তারপর সত্যি বলতে ভালোই লাগত কিন্তু। পুরো বিকেলটাই খেলে কাটিয়ে দেওয়া ব্যাপারটা তখন ছেলেমানুষী মনে হত। এই যে এত ফুল পড়ে আছে মাঠে, দলে পিষে চলে যাচ্ছি খেলতে খেলতে, একটিবারও হাতে তুলে দেখবো না কেমন ফুটেছিল? হাতে ধরত না সব পছন্দের ফুল, জামার পকেটে পুরতাম। সূর্য ডুবে যাবার সময়কার আকাশ দেখতাম ঘুরতে ঘুরতে- কত রঙ ধরত সাদা সাদা মেঘগুলোয়! থাকতো না বেশীক্ষন। নিম গাছ, নারকেল গাছ, কাঠগোলাপ গাছের সারি পেরিয়ে, পুকুর আর রেললাইন পার হয়ে চলে যেত দিনের আলো। বিকেল শেষ হয়ে আসতো। তখনো কলোনি এসোসিয়েশন লাইব্রেরীর মেম্বারশিপ ছিলনা। এমনি রিডিং রুমে গিয়ে অমর চিত্র কথা, নন্টে-ফন্টে, চাচা চৌধুরী পড়ে আবার রেখে আসতাম। বানান করে পড়তে পারি তখন।
দলে দলে ছেলেমেয়ে সাইকেল চালিয়ে যেত যার যার কোচিং ক্লাসের দিকে। যে বয়েসের কথা বলছি তখন আমার না ছিল সাইকেল, না পারতাম চড়তে। নিজের সম্পত্তি বলতে একটা রঙ করা টিনের বাক্স ছিল, বাবার টেবিলের নিচে রাখতাম। খালি ভাবতাম কবে সাইকেলে চড়ে পড়তে যাব ওই সব দাদা-দিদিদের মত। সাইকেলটাই ছিল আকর্ষণ। খেলে ফেরার পথে, মিষ্টির দোকান থেকে সিঙ্গাড়া ভাজার গন্ধ আসতো। ওসব খাওয়া বারন ছিল অনেকদিন। দেখতাম ফুটবল খেলে ফেরা ধুলোমাখা ছেলেদের, সবাই হাফ প্যান্ট। বগলে বল- উত্তেজিত ভাবে কথা বলতে বলতে হাঁটত। কেউ কেউ দাঁড়িয়ে যেত মিষ্টি বা ঘুগনীর দোকানের সামনে, জল চাইতো। ভাবতাম, ছেলেগুলো কেমন যেন। এত ধুলো মেখে কীকরে এত আনন্দে থাকে কে জানে।
সেইসব ধুলোমাখা ছেলেদের অনেককেই চিনেছি আরেকটু বড় হয়ে, একসঙ্গে পড়তে গিয়ে। ফাংশান বা পিকনিক করতে গিয়ে। কেউ কেউ আমার কিশোরীবেলার বন্ধু।
উত্তরপাড়া গঙ্গার ধারে। বালির দিকে হাঁটতে থাকলে একসময় চোখে পড়বে দক্ষিনেশ্বরের মন্দির, নদীর ওপারে। এপারের রাস্তাটা জি টি রোড। অনেকগুলো ঘাট আছে। নামকরা ঘাটেরা হল- শিবতলার ঘাট, খেয়াঘাট, দোলতলার ঘাট। দোলতলায় বসে দোলের মেলা। দোলের দিন থেকে বসে, দারুণ জমজমাট মেলা। রকমারি নাগরদোলায় চড়া, খেলনা-পুতুল, ভেঁপু-বাঁশি ছাড়াও ছোটদের আকর্ষণ থাকে জিলিপি, বাদামের গুড়-তক্তি, জিবেগজার প্রতি। পাওয়া যায় রসের গজা, নোনতা কাঠিভাজা, নিমকি, ফুটকড়াই, নানারকম আচারও। বড়রাও দেদার খায় এসব, তারসঙ্গে খায় এগরোল, ফিশফ্রাই, চাউমিন। কেনে হাতপাখা, লোহার চাটু, টিফিন কৌটো, চাকি-বেলনা, খুরপি... আরো কত কী। কিনবে বলে টাকা জমিয়ে রাখে রুমালে বেঁধে, সেই পুজোর পর থেকে। পুতুলনাচ হয় একধারে। কাচের চুড়ির দোকানে প্রায় প্রতি বছর আসে নতুন ধরনের কোনো চুড়ি। একবার এসেছিল রামায়ণ চুড়ি, একবার দিলওয়ালে চুড়ি। এখন নাকি আসছে করিনা কাপুর চুড়ি।
দোলের দিন এই দোলতলার ঘাটের চওড়া সিঁড়িগুলো রঙে মাখামাখি হয়ে থাকে আর সন্ধেবেলায় তাদের উপর একটু একটু করে নেমে আসে মোহময়ী জ্যোতস্নারাশি। সোনালী দিনের পরে একটা রূপোলী দিন শুরু হয়। মোহরের মত চাঁদটা গঙ্গার শিয়রে এসে দারুণ এক রোমান্টিক আবহ তৈরী করে দেয়।
খুশি খুশি একটা গন্ধ ছড়িয়ে যেতে থাকে গঙ্গার দিক থেকে আসা ভিজে বাতাসের সঙ্গে। আবির, জিলিপি আর বাদামের ধরা-ধরা শুকনো গন্ধের সঙ্গে মিশে যায়। তার সঙ্গে কখনো সখনো মেশে কামিনী ফুলের গন্ধ। তখন বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে নিতে মনে হয়- এই দুনিয়ার সকল ভালো।
দিনকাল পালটে গেছে অনেক, যেমন যায়। আমাদের বাড়ির পাশের কাঁঠাল গাছটা কাটা পড়েছে, অনেক বছর হয়ে গেল। ওই গাছটায় হাঁকাবুড়ো থাকতো, খুব ভয় পেতাম তাকে।
অনেক মাঠ আর নেই। অনেক বাড়িও। তার বদলে অনেক অনেক নতুন এপার্টমেন্ট তৈরী হয়েছে জায়গা জুড়ে। স্টেশন আর বাজারের দিকটায় সবচেয়ে বেশী। তাদের সবাইকে দেখতে ভালো-ও লাগে না, মানানসই তো নয়-ই। মনে হয় গায়ের জোরে ঢুকে পড়েছে। উত্তরপাড়াকে তার অনেক পুরনো বাসিন্দা এখন ঠাট্টা করে 'ফ্ল্যাটপাড়া' ডাকে।
আমাদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে, পারমার স্কুল ছাড়িয়ে যে রাস্তাটা শান্তিনগর রোড-এ গিয়ে মেশে, সেই মোড়ে একটা বাড়ির গায়ে একটা দোকান ছিল। খুব ছোট, খুব অল্প কটা জিনিস থাকতো। খুব বুড়ো একজন মানুষ চালাতেন দোকানটা। টিউব অথবা বাল্ব কিছুই ছিল না, একটা লন্ঠনের আলোয় কেনা-বেচা চলত রাত্রে। বিড়ি-সিগারেট, দেশলাই, সস্তার চা পাতা থাকত। চানাচুর, ডালমুঠ, ঝাল লজেন্স আর বিস্কুট দেখেছি ম্লানমুখ কতগুলো বয়ামে। পাকানো দড়িতে আগুন জ্বলে থাকতো। খুব ছোটবেলায়, দোকানটা দেখলে আমার কেমন ঘুম-ঘুম পেত। রহস্যময় লাগত বালিকা বয়েসের চোখে। একবার ভেবেছিলাম- বুড়ো মানুষটার কত কষ্ট হয়, ওঁর কি নেই কেউ? হয়ত ছিল, হয়ত কষ্টও হত না তত, তবু কাঁপা-কাঁপা হাতে চা পাতা ওজন করতে দেখে বড্ড মায়া লাগত। আধো অন্ধকারে নিচু চৌকির ওপর চট পেতে বসে থাকা বুড়ো মানুষ। খুব শীতের রাতেও দেখেছি শাল মুড়ি দিয়ে চুপ করে বসে আছেন। বলাই বাহুল্য, খদ্দের বেশী হতনা।
অনেক বছর ভুলে ছিলাম সেই দোকানটার কথা। মনে পড়ল কয়েকদিন আগে, হঠাত অকারণ। সেই বুড়ো মানুষটা তো নেই-ই, সেই দোকান এমনকি বাড়িটাও নেই।
খুব চেনা, খুব প্রিয় একটা বই থেকে পাতা ছিঁড়ে নেওয়ার মত মনে হয়। আর কটা মাত্র চেনা পাতা বাকি আছে। ওর গল্পগুলোও আর তেমন বুঝতে পারিনা।
(আপাতত শেষ)
ছোট্ট জায়গা। টাউন বলা যায়। প্রায় সবাই সবাইকে চেনে। শুধু চেনা নয়, ঠিকুজি-কুষ্ঠি জানে। লুকিয়ে প্রেম করা দূরে থাক, একা একা ফুচকা বা আইসক্রিম খাওয়াও অসম্ভব ব্যাপার। যত দূরেই থাকি না কেন, চেনা কেউ একবার দেখতে পেলে হল। ওষুধের দোকানের কাকু, পাশের বাড়ির কাজের মাসি, সদাব্যস্ত মহলানবীশ দাদু- যে দেখতে পাবে চেঁচিয়ে ডাক দিয়ে পিলে চমকে দেবে -কীরে, কবে এলি? আছিস তো এখন? একগাল হেসে বলা-এই তো এলাম, আছি। এটাই আদর। বুকের মধ্যে স্পষ্ট বুঝতে পারা- পৌঁছে গেছি।
অনেকগুলো মাঠ ছিলো। ছোট ছোট। বড় বড়। মাঠের পাশে কল্কেফুলের গাছ,টগরফুলের গাছ, মালতিলতা অনেক ছিল। খেলাধূলায় কোনোদিন-ই তেমন পারদর্শী না হবার ফলে, মাঝে মাঝেই মূল খেলা থেকে বাদ পড়ে যেতাম। দুধভাত। খেললে ভালো, না খেললে আরো ভালো। প্রথমটা অভিমান হত। তারপর সত্যি বলতে ভালোই লাগত কিন্তু। পুরো বিকেলটাই খেলে কাটিয়ে দেওয়া ব্যাপারটা তখন ছেলেমানুষী মনে হত। এই যে এত ফুল পড়ে আছে মাঠে, দলে পিষে চলে যাচ্ছি খেলতে খেলতে, একটিবারও হাতে তুলে দেখবো না কেমন ফুটেছিল? হাতে ধরত না সব পছন্দের ফুল, জামার পকেটে পুরতাম। সূর্য ডুবে যাবার সময়কার আকাশ দেখতাম ঘুরতে ঘুরতে- কত রঙ ধরত সাদা সাদা মেঘগুলোয়! থাকতো না বেশীক্ষন। নিম গাছ, নারকেল গাছ, কাঠগোলাপ গাছের সারি পেরিয়ে, পুকুর আর রেললাইন পার হয়ে চলে যেত দিনের আলো। বিকেল শেষ হয়ে আসতো। তখনো কলোনি এসোসিয়েশন লাইব্রেরীর মেম্বারশিপ ছিলনা। এমনি রিডিং রুমে গিয়ে অমর চিত্র কথা, নন্টে-ফন্টে, চাচা চৌধুরী পড়ে আবার রেখে আসতাম। বানান করে পড়তে পারি তখন।
দলে দলে ছেলেমেয়ে সাইকেল চালিয়ে যেত যার যার কোচিং ক্লাসের দিকে। যে বয়েসের কথা বলছি তখন আমার না ছিল সাইকেল, না পারতাম চড়তে। নিজের সম্পত্তি বলতে একটা রঙ করা টিনের বাক্স ছিল, বাবার টেবিলের নিচে রাখতাম। খালি ভাবতাম কবে সাইকেলে চড়ে পড়তে যাব ওই সব দাদা-দিদিদের মত। সাইকেলটাই ছিল আকর্ষণ। খেলে ফেরার পথে, মিষ্টির দোকান থেকে সিঙ্গাড়া ভাজার গন্ধ আসতো। ওসব খাওয়া বারন ছিল অনেকদিন। দেখতাম ফুটবল খেলে ফেরা ধুলোমাখা ছেলেদের, সবাই হাফ প্যান্ট। বগলে বল- উত্তেজিত ভাবে কথা বলতে বলতে হাঁটত। কেউ কেউ দাঁড়িয়ে যেত মিষ্টি বা ঘুগনীর দোকানের সামনে, জল চাইতো। ভাবতাম, ছেলেগুলো কেমন যেন। এত ধুলো মেখে কীকরে এত আনন্দে থাকে কে জানে।
সেইসব ধুলোমাখা ছেলেদের অনেককেই চিনেছি আরেকটু বড় হয়ে, একসঙ্গে পড়তে গিয়ে। ফাংশান বা পিকনিক করতে গিয়ে। কেউ কেউ আমার কিশোরীবেলার বন্ধু।
উত্তরপাড়া গঙ্গার ধারে। বালির দিকে হাঁটতে থাকলে একসময় চোখে পড়বে দক্ষিনেশ্বরের মন্দির, নদীর ওপারে। এপারের রাস্তাটা জি টি রোড। অনেকগুলো ঘাট আছে। নামকরা ঘাটেরা হল- শিবতলার ঘাট, খেয়াঘাট, দোলতলার ঘাট। দোলতলায় বসে দোলের মেলা। দোলের দিন থেকে বসে, দারুণ জমজমাট মেলা। রকমারি নাগরদোলায় চড়া, খেলনা-পুতুল, ভেঁপু-বাঁশি ছাড়াও ছোটদের আকর্ষণ থাকে জিলিপি, বাদামের গুড়-তক্তি, জিবেগজার প্রতি। পাওয়া যায় রসের গজা, নোনতা কাঠিভাজা, নিমকি, ফুটকড়াই, নানারকম আচারও। বড়রাও দেদার খায় এসব, তারসঙ্গে খায় এগরোল, ফিশফ্রাই, চাউমিন। কেনে হাতপাখা, লোহার চাটু, টিফিন কৌটো, চাকি-বেলনা, খুরপি... আরো কত কী। কিনবে বলে টাকা জমিয়ে রাখে রুমালে বেঁধে, সেই পুজোর পর থেকে। পুতুলনাচ হয় একধারে। কাচের চুড়ির দোকানে প্রায় প্রতি বছর আসে নতুন ধরনের কোনো চুড়ি। একবার এসেছিল রামায়ণ চুড়ি, একবার দিলওয়ালে চুড়ি। এখন নাকি আসছে করিনা কাপুর চুড়ি।
দোলের দিন এই দোলতলার ঘাটের চওড়া সিঁড়িগুলো রঙে মাখামাখি হয়ে থাকে আর সন্ধেবেলায় তাদের উপর একটু একটু করে নেমে আসে মোহময়ী জ্যোতস্নারাশি। সোনালী দিনের পরে একটা রূপোলী দিন শুরু হয়। মোহরের মত চাঁদটা গঙ্গার শিয়রে এসে দারুণ এক রোমান্টিক আবহ তৈরী করে দেয়।
খুশি খুশি একটা গন্ধ ছড়িয়ে যেতে থাকে গঙ্গার দিক থেকে আসা ভিজে বাতাসের সঙ্গে। আবির, জিলিপি আর বাদামের ধরা-ধরা শুকনো গন্ধের সঙ্গে মিশে যায়। তার সঙ্গে কখনো সখনো মেশে কামিনী ফুলের গন্ধ। তখন বুক ভরে নিঃশ্বাস নিতে নিতে মনে হয়- এই দুনিয়ার সকল ভালো।
দিনকাল পালটে গেছে অনেক, যেমন যায়। আমাদের বাড়ির পাশের কাঁঠাল গাছটা কাটা পড়েছে, অনেক বছর হয়ে গেল। ওই গাছটায় হাঁকাবুড়ো থাকতো, খুব ভয় পেতাম তাকে।
অনেক মাঠ আর নেই। অনেক বাড়িও। তার বদলে অনেক অনেক নতুন এপার্টমেন্ট তৈরী হয়েছে জায়গা জুড়ে। স্টেশন আর বাজারের দিকটায় সবচেয়ে বেশী। তাদের সবাইকে দেখতে ভালো-ও লাগে না, মানানসই তো নয়-ই। মনে হয় গায়ের জোরে ঢুকে পড়েছে। উত্তরপাড়াকে তার অনেক পুরনো বাসিন্দা এখন ঠাট্টা করে 'ফ্ল্যাটপাড়া' ডাকে।
আমাদের বাড়ি থেকে বেরিয়ে, পারমার স্কুল ছাড়িয়ে যে রাস্তাটা শান্তিনগর রোড-এ গিয়ে মেশে, সেই মোড়ে একটা বাড়ির গায়ে একটা দোকান ছিল। খুব ছোট, খুব অল্প কটা জিনিস থাকতো। খুব বুড়ো একজন মানুষ চালাতেন দোকানটা। টিউব অথবা বাল্ব কিছুই ছিল না, একটা লন্ঠনের আলোয় কেনা-বেচা চলত রাত্রে। বিড়ি-সিগারেট, দেশলাই, সস্তার চা পাতা থাকত। চানাচুর, ডালমুঠ, ঝাল লজেন্স আর বিস্কুট দেখেছি ম্লানমুখ কতগুলো বয়ামে। পাকানো দড়িতে আগুন জ্বলে থাকতো। খুব ছোটবেলায়, দোকানটা দেখলে আমার কেমন ঘুম-ঘুম পেত। রহস্যময় লাগত বালিকা বয়েসের চোখে। একবার ভেবেছিলাম- বুড়ো মানুষটার কত কষ্ট হয়, ওঁর কি নেই কেউ? হয়ত ছিল, হয়ত কষ্টও হত না তত, তবু কাঁপা-কাঁপা হাতে চা পাতা ওজন করতে দেখে বড্ড মায়া লাগত। আধো অন্ধকারে নিচু চৌকির ওপর চট পেতে বসে থাকা বুড়ো মানুষ। খুব শীতের রাতেও দেখেছি শাল মুড়ি দিয়ে চুপ করে বসে আছেন। বলাই বাহুল্য, খদ্দের বেশী হতনা।
অনেক বছর ভুলে ছিলাম সেই দোকানটার কথা। মনে পড়ল কয়েকদিন আগে, হঠাত অকারণ। সেই বুড়ো মানুষটা তো নেই-ই, সেই দোকান এমনকি বাড়িটাও নেই।
খুব চেনা, খুব প্রিয় একটা বই থেকে পাতা ছিঁড়ে নেওয়ার মত মনে হয়। আর কটা মাত্র চেনা পাতা বাকি আছে। ওর গল্পগুলোও আর তেমন বুঝতে পারিনা।
(আপাতত শেষ)
Thursday, December 31, 2009
সৃজন ও গুঞ্জনের বর্ষপুর্তি উপলক্ষে লেখা।
এইরকম এক মৃদুমন্দ শীতের সকালে অরকুটের ডাকবাক্স খুলে পেয়েছিলাম শ্রদ্ধাদির চিঠি। সবাইকে একসঙ্গে লেখা নেমন্তন্নের চিঠি। 'নতুন বছরে নতুন কম্যুনিটি'। বাংলার বধূ-র সদস্যা হবার সুবাদে চিঠিটি আমার বাক্সে এসেছিলো। কম্যুনিটি-র নামটা পড়ে প্রথমবারের জন্য আকৃষ্ট হই। 'সাহিত্য,সঙস্কৃতি ও সংবাদ'। পুণায় ভালো বাংলা লেখা নিয়মিত পড়তে পাওয়ার সু্যোগ কম। ভরসা অন্তর্জাল। তখন সু্যোগ পেলে প্রায়-ই পড়তাম online আনন্দবাজার, বাংলালাইভ ডট কম, ক্যালকাটাওয়েব ডট কম। পড়তাম গুরুচণ্ডালী। ভাবলাম দেখি এখানে কী পড়তে পাওয়া যায়। পল্লবগ্রাহী মানুষের স্বভাব যেমন হয়।এলাম । ছোট্ট কম্যুনিটি। ৫/৬ জন সদস্য। লক্ষ করলাম কী উৎসাহ নিয়ে সবাই লিখছে। সঞ্জীবদা অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়েছিল কম্যুনিটির প্রত্যেকটা বিষয়-কে। তখন নিয়মিত লিখছিল শ্রদ্ধাদি, সঞ্জীবদা, সুবীরবাবু, রজত দা, দেবলীনা দি, রজতশুভ্র বাবু ।
প্রথম পাতায় দেবার জন্য কবিতা/লেখা চেয়েছিল শ্রদ্ধাদি। 'ভাবনা যত সঞ্চিত' এই সময়ে লেখা। পাঠাতে, দু-একজনের মত নিয়েই শ্রদ্ধাদি টাঙিয়ে দিল প্রথম পাতায়। অবাক হয়ে গেলাম,ভালোও লাগলো খুব। আমি এখানে সেভাবে কাউকেই চিনতাম না। দেখলাম, কেউ এখানে 'তোমাকে তো ঠিক চিনলাম না'ধরণের ব্যবহার করলো না একটুও, টেনে নিলো কাছে। এসো উৎসুক চিত্ত, এস আনন্দিত প্রাণ। তারপর, আলাপ হলো সবার সঙ্গে ধীরে ধীরে। হয়ে গেলাম এখানকার মেয়ে- বুঁচি। রয়ে গেলাম সুখে-দুঃখে, সরবে-নীরবে।
অরকুটের আন্তর্জালিন সামাজিক ব্যবস্থায় একটি কম্যুনিটি ছেড়ে চলে যাওয়া অথবা স্বঘোষিত বন্ধু-কে ছেড়ে চলে যাওয়া অত্যন্ত সহজ কাজ। অত্যন্ত সাধারণও।পান থেকে চুন খসলে অনেকেই সেটা করে থাকেন, বিশেষ দোষও দেওয়া যায়না। যিনি যে উদ্দেশ্য নিয়ে এখানে এসেছেন, সে উদ্দেশ্য সিদ্ধ না হলে কেনই বা থাকবেন! এটা একবিংশ শতকের দিন, যা আমরা যাপন করছি। অনেক দাম দিয়ে কেনা এই মুহূর্ত, এই সুসময়। 'ব্যাক্তি', 'ভালো থাকা' শব্দগুলো এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে ব্যাক্তি কোথাও ভালো থাকতে পারছে না। না একা, না সমষ্টির অংশ হয়ে। কেবলই কী নেই, কী নেই ভাব আমাদের মনে ঢুকে পড়ছে। অসম্পূর্ণ, অতৃপ্ত, অসন্তষ্ট করে রাখছে সবসময়। সেখান থেকে সৃষ্টি হয়তো হয়, কিন্ত ভালো থাকা? হারিয়ে ফেলা কোমলতার কথা ভাবতে ভাবতেই আমরা আওড়াচ্ছি- বেশ তো আছি, আবার কী।
যোগাযোগ যেমন ভারমুক্ত হবার সুযোগ করে দেয়, অন্যরকম আনন্দ দেয় প্রায় তেমনিই তার সঙ্গে করে আনে আনুষঙ্গিক জটিলতা। ব্যাক্তি আকাশ-পাতাল ভাবে।
এ সবের মধ্যেও যখন দেখি কোনো এক সমষ্টির মধ্যে বাস করে ব্যাক্তি কোনোভাবে ভালো আছে, সুখে আছে; লিখে-পড়ে-পড়িয়ে, বুঝিয়ে দিতে পারছে মনের ভাব, নতুন নতুন কথা, হালকা করে ফেলতে পারছে বুক, ফুটিয়ে দিতে পারছে নির্ভেজাল ভালোলাগার হাসি, চাইছেনা ঠিক ছেড়ে চলে যেতে - ভালো লাগে।
প্রথম পাতায় দেবার জন্য কবিতা/লেখা চেয়েছিল শ্রদ্ধাদি। 'ভাবনা যত সঞ্চিত' এই সময়ে লেখা। পাঠাতে, দু-একজনের মত নিয়েই শ্রদ্ধাদি টাঙিয়ে দিল প্রথম পাতায়। অবাক হয়ে গেলাম,ভালোও লাগলো খুব। আমি এখানে সেভাবে কাউকেই চিনতাম না। দেখলাম, কেউ এখানে 'তোমাকে তো ঠিক চিনলাম না'ধরণের ব্যবহার করলো না একটুও, টেনে নিলো কাছে। এসো উৎসুক চিত্ত, এস আনন্দিত প্রাণ। তারপর, আলাপ হলো সবার সঙ্গে ধীরে ধীরে। হয়ে গেলাম এখানকার মেয়ে- বুঁচি। রয়ে গেলাম সুখে-দুঃখে, সরবে-নীরবে।
অরকুটের আন্তর্জালিন সামাজিক ব্যবস্থায় একটি কম্যুনিটি ছেড়ে চলে যাওয়া অথবা স্বঘোষিত বন্ধু-কে ছেড়ে চলে যাওয়া অত্যন্ত সহজ কাজ। অত্যন্ত সাধারণও।পান থেকে চুন খসলে অনেকেই সেটা করে থাকেন, বিশেষ দোষও দেওয়া যায়না। যিনি যে উদ্দেশ্য নিয়ে এখানে এসেছেন, সে উদ্দেশ্য সিদ্ধ না হলে কেনই বা থাকবেন! এটা একবিংশ শতকের দিন, যা আমরা যাপন করছি। অনেক দাম দিয়ে কেনা এই মুহূর্ত, এই সুসময়। 'ব্যাক্তি', 'ভালো থাকা' শব্দগুলো এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এদিকে ব্যাক্তি কোথাও ভালো থাকতে পারছে না। না একা, না সমষ্টির অংশ হয়ে। কেবলই কী নেই, কী নেই ভাব আমাদের মনে ঢুকে পড়ছে। অসম্পূর্ণ, অতৃপ্ত, অসন্তষ্ট করে রাখছে সবসময়। সেখান থেকে সৃষ্টি হয়তো হয়, কিন্ত ভালো থাকা? হারিয়ে ফেলা কোমলতার কথা ভাবতে ভাবতেই আমরা আওড়াচ্ছি- বেশ তো আছি, আবার কী।
যোগাযোগ যেমন ভারমুক্ত হবার সুযোগ করে দেয়, অন্যরকম আনন্দ দেয় প্রায় তেমনিই তার সঙ্গে করে আনে আনুষঙ্গিক জটিলতা। ব্যাক্তি আকাশ-পাতাল ভাবে।
এ সবের মধ্যেও যখন দেখি কোনো এক সমষ্টির মধ্যে বাস করে ব্যাক্তি কোনোভাবে ভালো আছে, সুখে আছে; লিখে-পড়ে-পড়িয়ে, বুঝিয়ে দিতে পারছে মনের ভাব, নতুন নতুন কথা, হালকা করে ফেলতে পারছে বুক, ফুটিয়ে দিতে পারছে নির্ভেজাল ভালোলাগার হাসি, চাইছেনা ঠিক ছেড়ে চলে যেতে - ভালো লাগে।
2010 শুরু হবার আগের দিন
আবার একটা নতুন বছর, নতুন দশক শুরু হতে চলেছে কাল থেকে। শুভকামনা রইলো সকলের জন্য।
কিছু কি বদলাবে নতুন বছরে? ইচ্ছাপূরণ হবে কোন? ইচ্ছা -র রূপ যে কীরকম, সেইটেই তো আগে জানা দরকার। অমলকান্তি নই, রোদ্দুর হতে চাই নাকি চাইনা- স্পষ্ট করে কোন কিছুই জানি না। কীকরে জানা যায়?
কিছু কি বদলাবে নতুন বছরে? ইচ্ছাপূরণ হবে কোন? ইচ্ছা -র রূপ যে কীরকম, সেইটেই তো আগে জানা দরকার। অমলকান্তি নই, রোদ্দুর হতে চাই নাকি চাইনা- স্পষ্ট করে কোন কিছুই জানি না। কীকরে জানা যায়?
Friday, July 17, 2009
I'm writing after a gap of 7 months! Well, this proves, blogging is not really 'my kind of thing'.
In the meantime few things have changed in my life. Am I happy for them? perhaps I am. :)
I've watched these movies (and liked them, hence taking the pain of penning them down:)) after coming to Pune for 6 weeks. They are:
1. A Mirror has two faces, English (Barbra Streisand)
2. Mr. Holland's Opus, English
3. Herbert, Bengali (Suman Mokhopadhyay)
In the meantime few things have changed in my life. Am I happy for them? perhaps I am. :)
I've watched these movies (and liked them, hence taking the pain of penning them down:)) after coming to Pune for 6 weeks. They are:
1. A Mirror has two faces, English (Barbra Streisand)
2. Mr. Holland's Opus, English
3. Herbert, Bengali (Suman Mokhopadhyay)
Thursday, January 1, 2009
New Year Wishes
Today is a new day. A fresh new day of a garden fresh new month and year. :-)
Today is the 1st day of January, 2009.
I feel hopeful and happy. Somehow all the wishes from friends help me feel that. I don't know if these wishes are just empty words. Templates, forwards or copies, I don't care. Today I 'd love to believe that these wishes are the heartfelt wishes from people I know, I love and care for.
2008 wasn't a great year, not that bad too. It was just OK, but I've learnt a lot from people and relations. Some were good, some were painful as well. Nevertheless, they've enriched me.
Wish I can get a lot better this year. Wiser, stronger (sounds like Horlicks ad :-)) and more mature in my decisions and actions.
Wish that we get a peaceful earth and a safe atmosphere for everyone, this year. Wish this planet knows no hunger, violence or terror. Wish that every human gets the light of knowledge and the warmth of love.
Peaceful and prosperous New Year to my wonderful, wonderful world. Happy New Year.
Today is the 1st day of January, 2009.
I feel hopeful and happy. Somehow all the wishes from friends help me feel that. I don't know if these wishes are just empty words. Templates, forwards or copies, I don't care. Today I 'd love to believe that these wishes are the heartfelt wishes from people I know, I love and care for.
2008 wasn't a great year, not that bad too. It was just OK, but I've learnt a lot from people and relations. Some were good, some were painful as well. Nevertheless, they've enriched me.
Wish I can get a lot better this year. Wiser, stronger (sounds like Horlicks ad :-)) and more mature in my decisions and actions.
Wish that we get a peaceful earth and a safe atmosphere for everyone, this year. Wish this planet knows no hunger, violence or terror. Wish that every human gets the light of knowledge and the warmth of love.
Peaceful and prosperous New Year to my wonderful, wonderful world. Happy New Year.
Subscribe to:
Posts (Atom)